নাঈম হাসান নিরব ॥
সিরাজগঞ্জের রান্ধুনীবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তৈরি হয়ে আসছে নানা ধরনের মাটির জিনিসপত্র। বংশপরম্পরায় এ গ্রামের বহু পরিবার মৃৎশিল্পকে আঁকড়ে ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই ঐতিহ্য আজ টিকে থাকার লড়াইয়ে।
একসময় রান্ধুনীবাড়ির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, কলস ও শৌখিন মাটির সামগ্রীর কদর ছিল জেলাজুড়ে। গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই ছিল চাহিদা। কিন্তু প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা পণ্যের দাপটে ধীরে ধীরে কমে গেছে মাটির জিনিসের ব্যবহার। আধুনিক তৈজসপত্রের সহজলভ্যতায় প্রাচীন এই পেশা এখন বিলুপ্তির পথে। কারিগররা জানান, আগে বিভিন্ন ধরনের হাঁড়ি-পাতিল ও কলস তৈরি করলেও এখন সেগুলোর বাজার নেই বললেই চলে। তাই বাধ্য হয়ে তারা বর্তমানে মূলত দইয়ের পাত্র তৈরি করছেন। প্রতিদিন দু’জন মিলে প্রায় ২৫০টি পাত্র তৈরি করা যায়। প্রতি পিস ১১ থেকে ১২ টাকায় বিক্রি হয়। এতে সামান্য লাভ থাকে, যা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের তৈরি পাত্র শুধু সিরাজগঞ্জেই নয়, পাবনাসহ বিভিন্ন শহরে সরবরাহ করা হয়। তবুও আগের মতো আয় নেই বলে জানান কারিগররা। প্রবীণ মৃৎশিল্পী ভানু পাল বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা এই কাজ করেই সংসার চালিয়েছেন। এখন মানুষ মাটির হাঁড়ির বদলে প্লাস্টিকের পণ্য ব্যবহার করছে। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছর পর হয়তো এই এলাকায় মাটির শিল্পের কোনো চিহ্নই থাকবে না।” মিনা পাল জানান, অল্প আয়ে সংসার চালানো কঠিন হলেও বাপ-দাদার পেশাকে টিকিয়ে রাখতেই তারা এখনো চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছেন। ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তা না হলে একসময় রান্ধুনীবাড়ির মাটির চাকার শব্দ হয়তো শুধুই স্মৃতি হয়ে থাকবে।