গঞ্জের বাণিজ্য প্রতিবেদক ॥
আসন্ন রমজানকে ঘিরে সিরাজগঞ্জের বাজারে হরেক রকমের খেজুর আসতে শুরু করেছে। শহরের বড় বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে জমে উঠেছে খেজুরের বেচাকেনা। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশিরভাগ জাতের খেজুরের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরবরাহে ঘাটতি নেই। বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানিকৃত খেজুরের পাশাপাশি দেশীয় কিছু জাতও পাওয়া যাচ্ছে। একই জাতের খেজুর মান ও আকারভেদে ভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।
বড় বাজারের খুচরা বিক্রেতা মৃত্যুঞ্জয় পাল জানান, রমজান উপলক্ষে বাজারে নানা ধরনের খেজুর এসেছে। এবছর ‘ধাপাশ’ খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা কেজি, যা গত বছর ছিল ৪৫০ টাকা। ‘সুপ্রিম’ খেজুর ৭০০ টাকা, গত বছর ছিল ৬৫০ টাকা। ‘মরিয়ম’ খেজুর মানভেদে ৬০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ‘কামরাঙা মরিয়ম’ ৭০০ টাকা, ‘কালমি’ ৬০০ টাকা এবং ‘বড়ই’ খেজুর ১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে দামী ‘মিডজুল’ খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকা কেজিতে। পাইকারি বিক্রেতা মারুফ বলেন, রমজান সামনে রেখে বাজারে খেজুরের আমদানি বেড়েছে। অধিকাংশ খেজুরের দাম গত বছরের মতোই রয়েছে, তবে কিছু জাতের দাম কিছুটা বেড়েছে। আমদানি আরও বাড়লে দাম কমতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। ব্যবসায়ীরা জানান, আমদানি খরচ ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই দাম কিছুটা বেড়েছে। তারা ক্রেতাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ বা মেয়াদ বাড়ানোর স্টিকার লাগানো খেজুর কেনা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কেনার আগে প্যাকেটের মেয়াদ ও মোড়ক ভালোভাবে দেখে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা জানান, ফুটপাতেও এ বছর অনেক খেজুরের দোকান বসেছে। খোলা অবস্থায় খেজুর বিক্রি না করে ঢেকে রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যেন মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর বিক্রি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন ক্রেতারা।