বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন

তাড়াশে ভাসমান শামুকের বেচাকেনা, হুমকির মুখে পড়তে পারে জীববৈচিত্র্য

সাব্বির মির্জা, তাড়াশ / ২২২ বার
আপডেট : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলা বসে ব্যাতিক্রমি শামুকের হাট। প্রতিদন ভোর থেকে জমে ওঠে এই শামুকের হাট। রাতভর চলনবিলের বিভিন্ন স্থান থেকে মৎস্যজীবীরা শামুক সংগ্রহ করে নৌকা যোগে প্রতিদিন ভোরে মাকরশন সহ বিভিন্ন স্থানে ভাসমান হাটে বিক্রি করতে নিয়ে আসেন।
প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে বিভিন্ন বিল অঞ্চল থেকে ব্যাপকহারে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহ করা হয়। জুলাই থেকে অক্টোবর চার মাস চলে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহের কাজ, তবে এবার বর্ষার পানি দেরিতে নামায় আরো এক মাস চলবে শামুক ও ঝিনুক সংগ্রহ। পরিবেশবিদরা বলছেন, উন্মুক্ত জলাশয়ের প্রাকৃতিক ফিলটার হিসেবে পরিচিত এসব জলজ প্রাণী নিধনের ফলে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়বে। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত একজন ব্যক্তি তিন থেকে চার বস্তা শামুক সংগ্রহ করে থাকে। প্রতি বস্তা শামুক বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। প্রধানত হাঁস ও মাছের খাবার হিসেবে এই শামুক ব্যবহার হয়। স্থানীয় ব্যাপারীরা এই শামুক ক্রয় করে খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের মাছের খামারগুলোর খাদ্য হিসেবে বিক্রি করছেন। চলনবিলে প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকার শামুক বিক্রি হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানান। শামুক সংগ্রহকারী মোতালেব হোসেন জানান, বর্ষার সময়ে তাদের কাজ থাকে না, চাষাবাদ বন্ধ থাকে, পেটের দায়ে স্থানীয় শামুক ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা নিয়ে তারা শামুক সংগ্রহ করেন। শামুক সংগ্রহ করে প্রতিদিন জনপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। শামুক ও ঝিনুকের ব্যবসায়ী আব্দুল মমিন জানান, ছোট-বড় সব মিলিয়ে ২০ থেকে ২৫ জন ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা স্থানীয় সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে শামুক কিনে বিভিন্ন জেলার পাইকারি দরে আড়তে বিক্রি করেন। বর্ষার তিন থেকে চার মাস শামুক কেনাবেচা হয়।

এদিকে তাড়াশ ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিদ্যুৎ কুমার জানান, ২০১২ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইনে শামুককে জলজ প্রাণী হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি আরো বলেন, উন্মুক্ত জলাশয়ে, বিশেষ করে খাল-বিল, হাওর-বাঁওড়ে বংশবিস্তার করে থাকে শামুক ও ঝিনুক। অপরদিকে জলাশয়ের নোংরা পানির পোকামাকড় আহার করে পানি বিশুদ্ধকরণের কাজ করে। স্থানীয় মিঠা পানির মাছের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করে শামুক।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসচর নুসরাত জাহান বলেন, শামুক ঝিনুক সংগ্রহের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে তাদের সচেতনা সৃষ্টি করতে হবে।


এ জাতীয় আরো সংবাদ
কারিগরি সহযোগিতায়: সিরাজগঞ্জ ইনফো