বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন

বেড়া- সাঁথিয়ার যমুনার চরাঞ্চলে কৃষকের পন্য পরিবহনের একমাত্র ভরসা ঘোড়ার গাড়ি

আরিফ খাঁন, বেড়া-সাঁথিয়া (পাবনা) প্রতিবেদক / ২০৭ বার
আপডেট : শনিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৫

পাবনার বেড়া- সাঁথিয়ার যমুনার চরাঞ্চলে কৃষকের পন্য পরিবহনের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে ঘোড়ার গাড়ি।

কালের বিবর্তনে ঘোড়ার গাড়ি হারিয়ে গেলেও গত দুই তিন বছর ধরে উপজেলার সাঁথিয়া-বেড়ায় যমুনার চরে কৃষকদের জমি থেকে ধান, পেঁয়াজ,পাটসহ সকল ফসলের বাহন হিসেবে পরিচিত হয়েছে এই ঘোড়ার গাড়ির। যেখানে ইঞ্জিন চালিত নছিমন করিমন যেতে পারে না সেখানে ঘোড়ার গাড়ি অতি সহজেই কাঁদা মাটির মধ্যেও যেতে পারে। তাছাড়া ভাড়াও কম। আর এই সকল ঘোড়ার গাড়ি বিভিন্ন ফসলের মৌসুমে বেড়ার চরঞ্চলগুলো থেকে দল বেধে আসে। চরে পাকা রাস্তা, আধুনিক যানবাহনের চলাচল নেই বললেই চলে। পাড় থেকে চরের ভেতরের গ্রামগুলোর দূরত্ব দুই-তিন কিলোমিটার। রাস্তায় কখনো থাকে কাদা, কখনো বালুতে ভরা। তাই ঘোড়ার গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো বাহনে যাতায়াত করাটা কঠিন। তবে দক্ষিণ চরপেঁচাকোলা ছাড়াও উপজেলার প্রতিটি চরাঞ্চলেই ঘোড়ার গাড়ি একমাত্র ভরসা।
চরবাসীকে জিনিসপত্র কিনতে, চিকিৎসার প্রয়োজনে বা স্কুল-কলেজে যেতে প্রথমে চরের পাড়ে যেতে হয়। তারপর নৌকায় করে বাকি পথ। তবে বেশির ভাগের ভরসা ঘোড়ার গাড়ি। যাতায়াত থেকে শুরু করে মাঠে ফসল পৌঁছানো, বাজারে মালামাল বহন-সবকিছুই চলে এই ঘোড়ার গাড়িতে করে। বিশেষ করে হাটের দিনগুলোতে এর চাহিদা বেড়ে যায়। চরপেঁচাকোলায় প্রায় দেড়শ পরিবারের বসবাস। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে ঘোড়ার গাড়ি। নিয়মিত ঘোড়ার পরিচর্যাও করতে হয় তাদের।
চরবাসীর সঙ্গে আলাপচারিতায় জানা যায়, প্রতিদিন একেকটি ঘোড়ার জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার খাবার লাগে। এর মধ্যে রয়েছে খইল, ভুসি, ঘাস, ছোলা, ধানের কুঁড়া ও চাল। কখনো কখনো থাকে খড়। এ ছাড়া চিকিৎসা খরচ তো আছেই।
অনেকেই নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে ঘোড়ার গাড়ি ভাড়াতেও চালান। এভাবে দিনে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হয়। কথা হচ্ছিল চরপেঁচাকোলার চালক কামরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, ‘জমির ফসল আর বাড়ির লোকজনের যাতায়াতের জন্য প্রায় সারা দিন গাড়ি লাগে। কখনো কাজ না থাকলে ভাড়ার বিনিময়ে অন্যের জন্য গাড়ি চালাই। তখন বাজারে মালপত্র বা মানুষ পৌঁছে দিই।’
চরবাসীর দেওয়া তথ্য অনুসারে, একেকটি ঘোড়ার গাড়ি তৈরিতে এখন খরচ পড়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা। গাড়ির কাঠ ও লোহার অংশ আলাদাভাবে তৈরি করা হয়। স্থানীয় মিস্ত্রিরা পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে একটি গাড়ি তৈরি করতে পারেন। গাড়ির জন্য সাধারণ মানের একেকটি ঘোড়া কিনতে লাগে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা। তবে ভালো মানের ঘোড়া হলে গুনতে হয় লাখ টাকার বেশি। চরের ইব্রাহিম হোসেন (৬৫) বলেন, ‘এখানে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ঘোড়ার গাড়ি আছে। আমাদের বাড়িতেই কয়েক ভাই মিলে তিনটি ঘোড়ার গাড়ি চালাই।
বেড়ার মনজুর কাদের মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, ‘আমি প্রায়ই যমুনার চর এলাকায় যাই। কৃষিকাজ, বাজারে যাতায়াত এই গাড়িই ভরসা


এ জাতীয় আরো সংবাদ
কারিগরি সহযোগিতায়: সিরাজগঞ্জ ইনফো