সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার চর ঘাটিনা গ্রামের ফজলুল হক। মালচিং পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে তিনি এখন সফল কৃষক।
২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি জাহাজ তৈরির কারখানায় কাজ শুরু করেন। সেখানে দীর্ঘ দিন কাজ করার পর চাকরি ছেড়ে নিজ এলাকায় এসে ব্যবসা শুরু করেন। শুরুতে ব্যবসায় লাভ হলেও ২০২০ সালে করোনার ক্ষতির মুখে পড়েন।
পরে ওই ব্যবসা গুটিয়ে তিনি শুরু করেন কৃষিকাজ।
পরীক্ষামূলকভাবে নিজ গ্রামে বাবার তিন বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ফল ও সবজি চাষ শুরু করেন। তাতে একের পর এক আসতে থাকে সফলতা।
সম্প্রতি চর ঘাটিনা এলাকায় ফজলুল হকের মালচিং পদ্ধতির কৃষি খামারে গিয়ে দেখা যায়, বরই ও পেয়ারাগাছে ঝুলছে ফল। চাষ হচ্ছে উন্নত জাতের টমেটো, পেঁপে, বেগুন। ফজলুল বলেন, মালচিং বিষমুক্ত সবজি চাষের একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। গাছপালার গোড়া, সবজিখেত ও বাগানের বেডের জমি বিশেষ পদ্ধতিতে ঢেকে চাষাবাদের পদ্ধতিকে বলে মালচিং। এখন প্লাস্টিক মালচিংয়ের ব্যবহার জনপ্রিয় হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ফলন ভালো হওয়ায় এবং বাজারমূল্য ভালো থাকায় তাঁর লাভ হচ্ছে। ফজলুল হক বলেন, প্রথম অবস্থায় বাবার পাঁচ বিঘা জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন। মালচিং করে উন্নত জাতের তরমুজ, ক্যাপসিকাম চাষ করেন। তিন লাখ টাকা পুজি নিয়ে শুরু করেন। ধীরে ধীরে তার চাষাবাদের পরিধি বেড়েছে। গত তিন মাসে এই জমি থেকে সাড়ে ৯ লাখ টাকার সবজি বিক্রি করেছেন। আরো বিক্রি হবে বলে তিনি জানান। এ ছাড়াও পলিনেট পদ্ধতিতে জারবেরা সহ বিভিন্ন ফুলের বাগান করেছেন। যা স্থানীয় বাজার সহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়ে থাকে।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন বলেন, আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ অত্যন্ত লাভজনক পদ্ধতি। উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় কৃষকদের এতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।