বগুড়ার শিবগঞ্জে শীতকালীন ফসল ধনেপাতা গ্রীষ্ম ও শরৎকালে চাষ করে স্থানীয় সবজি চাষিদের তাক লাগিয়েছেন কৃষি উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম। শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলি ইউনিয়নের ভরিয়াপাড়া এলাকায় তিনি শীতকালীন এই ফসল গ্রীষ্ম ও শরৎ মৌসুমে চাষ করেছেন। বিঘাপ্রতি মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ করে ৩৫ দিনের মধ্যে তা পরিপূর্ণতা পাওয়ায় প্রায় লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। অসময়ে ধনেপাতা চাষ করায় স্থানীয় কৃষকরা এ ফসল চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি বিভাগ বলছে, অসময়ে ধনেপাতা চাষ করলে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন, সেই সঙ্গে ভোক্তাদের চাহিদা পূরণে ভালো ভূমিকা রাখা যাচ্ছে।
সুস্বাদু ও মুখরোচক খাবার তৈরির দারুণ উপকরণ এই ধনেপাতা। আমাদের দেশে মূলত শীতকালেই বেশি পাওয়া যায়। শস্যভান্ডারখ্যাত বগুড়া জেলায় বছর জুড়ে সবজিসহ বিভিন্ন মসলা ফসল চাষ হয়। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দিন দিন বাড়ছে চাষের জমি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অসময়ে ধনেপাতা চাষ করে সফলতার মুখ দেখেছেন শিবগঞ্জের চাষিরা। ভালো ফলনে বাজারেও ভালো দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। উৎপাদন খরচের তিনগুণের বেশি অর্থ পাওয়া যাচ্ছে স্বল্পকালীন এ ফসল চাষে। লাভজনক হওয়ায় অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন ধনেপাতা চাষে। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলির ভরিয়াপাড়া এলাকায় জমির ওপরে শেডনেট দিয়ে ধনে বীজ রোপণ করা হয়। বীজ বপনের ২৫ থেকে ৩৫ দিনের মধ্যেই বিক্রির উপযোগী হয়েছে ধনেপাতা। প্রতি বিঘায় ৮ থেকে ১০ কেজি বীজ বপন, এরপর নিড়ানি আর উত্তোলনসহ সব মিলিয়ে খরচ হয় সর্বোচ্চ প্রায় ২০ হাজার টাকা। সার সেচ কীটনাশক খরচ নেই বললেই চলে। মাত্র ৩৫ দিনের মধ্যেই প্রায় ২০ মণ ফসল পাওয়া গেছে, যার বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা। গ্রীষ্ম মৌসুমে বাজারে ২শ থেকে ৩শ টাকা কেজি ও বর্তমানে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে ধনেপাতা। অসময়ে চাষাবাদ হওয়ায় বাজারে চাহিদা বেশ রয়েছে। উদ্যোক্তার এই চাষাবাদ দেখতে অনেকেই আসছেন এই প্রত্যন্ত এলাকায়। তারাও আগ্রহী হচ্ছেন স্বল্পসময়ে স্বল্পখরচের এ ফসল চাষে। অন্য ফসলের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবেও চাষ করা যায় বলেও জানিয়ে কৃষি কর্মকর্তারা। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, আমরা সাধারণত শীতকালে ধনেপাতা চাষ করি। এবার সাইফুলকে দেখেছি গ্রীষ্মকালে ধনেপাতা চাষ করতে। যা আমাদের অবাক করে দিয়েছে। আমরাও আগামীতে এই ধনেপাতা চাষ করব। অল্প সময়ে বেশি লাভ। ভরিয়া গ্রামে নারী কৃষি উদ্যোক্তা শারমিন সুলতানার সঙ্গে কথা হয়। তিনি অসময়ের ধনেপাতা চাষ দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, অসময়ে ধনেপাতা চাষ হচ্ছে জেনে দেখতে এসেছি। এখানে অনেকগুলো কৃষির ফসল সম্পর্কে ধারণা পেলাম। যা আমার উদ্যোক্তা জীবনে কাজে লাগবে। কৃষি উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, চার মাসের অধিক সময় ধরে ধনেপাতা চাষ করছি। অসময়ে এই ফসল চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছি। প্রথম চালানে ১০ হাজার টাকা খরচ করে ধনিয়াপাতা চাষ করি। সেখান থেকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ধনেপাতা বিক্রি করেছি। এরপর ২০ হাজার টাকা খরচ করে এক বিঘা জমি চাষ করি। তাতে এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ টাকার ধনেপাতা বিক্রি করেছি। শীতকালের এই ফসল গ্রীষ্মকালে বেশি দামে বিক্রি করা যায়। শরৎকালেও বিক্রি হচ্ছে। তবে গ্রীষ্মকালীন সময়ে বেশি দামে বিক্রি করা যায়। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুর রহমান বলেন, ধনেপাতা শীতকালীন ফসল। এই ফসল শীতকালে বেশি দাম পাওয়া যায় না। তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালে উৎপাদন হলে বেশি দামে বিক্রি করতে পারে কৃষকরা। শরৎকালেও উৎপাদন করা যায়। এ সময়ও শীতকালের তুলনায় বেশি দামে ধনেপাতা বিক্রি হয়। আর এই ধনেপাতা চাষে সব ধরনের সহায়তা কৃষি অফিস থেকে করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।