বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৬ পূর্বাহ্ন

উল্লাপাড়ায় কৃষকেরা রোপা আমন চারা লাগাতে ব্যস্ত ॥ বাজারে বেড়েছে চাহিদা

উল্লাপাড়া প্রতিবেদক / ২২৯ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫

এমন নানা জাতের ধান চারা লাগাচ্ছেন। উল্লাপাড়া সদরের কাওয়াক মোড় , সলঙ্গায় রোপা আমন ধানের চারা কেনাবেচা হচ্ছে। এক পণ চারা এখন একশো আশি থেকে দুইশো টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে । এ হিসেবে এক মুঠো চারা সোয়া দুই থেকে আড়াই টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। রোপা আমন ধানের চারা বীজতলা থেকে ব্যবসায়ীদের হাত হয়ে নিজস্ব চারা না থাকা কৃষকের কাছে যাচ্ছে বলে জানা গেছে ।

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে এবারের মৌসুমে উপজেলায় ১১ হাজার ৫৭০ হেক্টর পরিমাণ জমিতে আমন ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। উপজেলার সলঙ্গা , রামকৃষ্ণপুর , পূর্ণিমাগাতী , হাটিকুমরুল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার আবাদী মাঠে কৃষকেরা রোপা আমন ধানের আবাদ শুরু করেছেন। অনেক এলাকায় কৃষকেরা সেচ মেশিনে জমিতে পানি সেচ দিয়ে হালচাষ ও মই টেনে জমি তৈরী পর ধান চারা লাগাচ্ছেন। সদর উল্লাপাড়া ইউনিয়নের বাখুয়া মাঠে গত দিন সাতেক হলো কৃষকেরা রোপা আমন ধান চারা লাগাচ্ছেন। সলঙ্গার গোজা গ্রামের মাঠে পাওয়ার টিলারে হালচাষ করতে দেখা গেছে। জানা গেছে বেশীরভাগ কৃষক নিজস্ব বীজতলার চারা জমিতে লাগাচ্ছেন। এদিকে যাদের নিজস্ব চারা নেই তারা এলাকার যেসব হাট বাজারে ধান চারা কেনাবেচা হয় সেসব হাট থেকে পছন্দের ধান চারা কিনে এনে জমিতে লাগাচ্ছেন।
উপজেলা সদরের কাওয়াক মোড় , সলঙ্গা বাজারের থানা মাঠে বিগত বছরগুলোর মতো এবারেও কয়েক জন ব্যবসায়ী রোপা আমন ধান চারা বেচা বিক্রি করছেন । এরা নানা জাতের ধান চারা বেচছেন বলে জানান। আলী আশরাফ বলেন সলঙ্গার মাধাইনগর , চক নিহাল , আমশড়া ও আশেপাশের আরো কয়েক এলাকার কৃষকেরা নিজেদের বীজতলা থেকে চারা তুলে এনে তাদের কাছে পাইকারি দরে বেচছেন। অনেক কৃষক নিজেদের জমিতে চারা লাগানোর পর বাচতি চারা এনে তাদের ( ব্যবসায়ীদের) কাছে বেচছেন। আবার কেউ কেউ ব্যবসায় রোপা আমন ধানের বীজতলা করে সে চারা এখন তুলে এনে বেচছেন। উপজেলা সদরের কাওয়াক মোড়ে চারা ব্যবসায়ী আতাই আলী , চান মিয়া প্রতিবেদককে বলেন এক পণ ( আশি মুঠোয় এক পণ ) চারা এখন একশো আশি টাকা থেকে দুইশো টাকায় বেচা বিক্রি করছেন। চারা ব্যবসায়ীরা বলেন কৃষকদের কাছে গুটি স্বর্ণা ও স্বর্ণা জাতের ধান চারার চাহিদা বেশী। এদিকে গত কদিন হলো বন্যার পানি বাড়ায় ধান চারার চাহিদা একটু কমেছে। বিভিন্ন এলাকায় খোজ নিয়ে জানা গেছে কোনো কোনো এলাকার কৃষকেরা তাদের মাঠের নীচু জমি হালচাষ করে রাখছেন। বন্যার পানি বাড়তে থাকায় আপাতত জমি তৈরী করে রাখছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান এরইমধ্যে কৃষকেরা রোপা আমন ধান চারা লাগানো শুরু করেছেন। কৃষকেরা বেশী হারে ফলন মেলে এমন জাতের ধান চারা লাগাচ্ছেন । এবারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে রোপা আমন ধানের আবাদে কৃষি প্রণোদনায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক এক ৪০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে রোপা আমন ধান বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকদের অনেকেই নিজস্ব বীজতলার চারা জমিতে লাগাচ্ছেন। আর যাদের নেই তারা চারা কিনে লাগাচ্ছেন বলে জেনেছেন। তার অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে এর আবাদে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।


এ জাতীয় আরো সংবাদ
কারিগরি সহযোগিতায়: সিরাজগঞ্জ ইনফো