বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন

ভাল ফলনে লাভের মুখে সিরাজগঞ্জের কৃষকরা

নজরুল ইসলাম / ২৯৯ বার
আপডেট : সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আবারও ফিরছে সোনালী আঁশ খ্যাত পাটের সুদিন। কাঙ্ক্ষিত মূল পাওয়ায় সিরাজগঞ্জে দিন দিন পাটের আবাদে ঝুঁকিছে কৃষকরা। গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় পাটের ভাল আবাদের পাশাপাশি ফলনও ভালো হয়েছে। পাটের পাশাপাশি বিপুল পরিমান পাটকাঠি পাওয়ায় কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি ফুটেছে। বাজারে পাটের দামও বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার লাভের মুখ দেখছেন জেলার কৃষকরা। অন্যদিকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার ও পাট-আশ উৎপাদনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে আশার আলো দেখছেন এ অঞ্চলের কৃষক সমাজ।
জেলা পাট উন্নয়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের প্রকল্প ভিত্তিক ৬টি উপজেলায় এ বছরে ১৩ হাজার ৫০ জন কৃষকের বিপরীতে ৬ হাজার ২৪০ মেট্রিক টন পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর অংশ হিসেবে ১৫’শ কৃষককে পাটবীজ উৎপাদন ও চাষাবাদে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং কৃষকদের মাঝে ৩০০ কেজি বীজ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাট অধিদপ্তরের বাস্তবায়ানাধীন উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৪-২৫ অর্থ বছর মৌসুমে সদরে পাট উৎপাদনে ৭৬৬ একর জমিতে ২৬ হাজার ৪০মন, রায়গঞ্জ উপজেলায় পাট উৎপাদনে ১ হাজার একর জমিতে ৩২ হাজার মন, কাজিপুর উপজেলায় পাট উৎপাদনে ৭৬৬ একর জমিতে ২৫ হাজার ২৭৮ মন, বেলকুচি উপজেলায় পাট উৎপাদনে ৬১৭ একর জমিতে ২১ হাজার ৫৯৫ মন, উল্লাপাড়া উপজেলায় পাট উৎপাদনে ৬৩৪ একর জমিতে ২১ হাজার ৫৫৬ মন, শাহজাদপুর উপজেলায় পাট উৎপাদনে ৫৬৭ একর জমিতে ১৮ হাজার ৭১১ মন, যা পাট উৎপাদনের একর প্রতি গড় ফলন ৩৩.৩৭৫ মণ দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যেই তোষা জাতের বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কৃষকরা জমি থেকে পাওয়া পাটকাঠি শুকিয়ে পরিষ্কার করে বাজারে বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গ্রামীণ জীবনে পাটকাঠির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে—রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে, ঘরবাড়ি তৈরিতে বাঁশের বিকল্প হিসেবে এবং গ্রামীণ নানা প্রয়োজনে। ফলে স্থানীয় বাজারেই চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা সহজেই তা বিক্রি করতে পারছেন।


এ জাতীয় আরো সংবাদ
কারিগরি সহযোগিতায়: সিরাজগঞ্জ ইনফো