একসময় ফেলে দেয়ার জিনিস হিসাবে বিবেচনা করা হতো ডিমের খোঁশা। যত্র তত্র ফেলা এই ডিমের খোঁশা নষ্ট করতো পরিবেশের ভারসাম্য। তবে এখন জয়পুরহাটে এই ডিমের খোঁশা থেকে পাউডার বানিয়ে বিক্রির চাহিদার সাথে বেড়েছে আয়ের উৎস। তাই চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পিকেএসএফের অর্থায়নে জাকস ফাউন্ডেশন থেকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও উপকরণ পেয়ে রীতিমত শিল্প আকারে এই বর্জ্যের সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবসা শুরু করেছে বেলাল মোল্যা। তার সাফল্যে দেখে অনেকেই এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।
ডিমে-ভাতে বাঙালি হিসাবে পরিচিত মানুষের কাছে ডিম বরাবরই জনপ্রিয় থাকলেও, ডিমের খোঁশার কোন কদর ছিল না। জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভিটি গ্রামের বেলাল মোল্যা। আগে মুরগির লিটারের ব্যবসার টাকা দিয়ে সংসার চলতো কোন রকমে। এ সময় পিকেএসএফের অর্থায়নে জাকস ফাউন্ডেশন থেকে বিনামূল্যে পরিত্যক্ত ডিমের খোঁশা প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রশিক্ষণ ও উপকরণ পেয়েছেন। প্রশিক্ষণ পরবর্তীতে কয়েক বছর ধরে পরিত্যক্ত ডিমের খোঁশা মুরগির বাচ্চা উৎপাদনের হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করে। সংরক্ষণের পর সেটি মেশিনের সাহায্যে পাউডার তৈরী করেন। পাইকাররা সরাসরি কারখানায় এসে ৬শ টাকা মনে কিনে নিয়ে যান। বর্তমানে এই ডিমের খোঁশার পাউডার জৈব সার, পোল্ট্রি ও মৎস্য খাতে খাবার তৈরীতে ক্যালসিয়ামেরর যোগান দিচ্ছে। চাহিদা ভাল থাকায় বিনা পুঁজিতে বদলিয়েছে তাঁর ভাগ্য। এখন তাঁর সাফল্যে দেখে অনেকেই জড়িয়ে পড়েছেন এ পেশায়। পরিত্যক্ত এই ডিমের খোঁশা মুরগির বাচ্চা উৎপাদনকারী বিভিন্ন হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করে রোদে শুকিয়ে পাউডার তৈরী করে বাজারজাত করার পর আর পিছনে তাকাতে হয়নি তার। এই ব্যবসা শুরু করে তার নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের সাথে অনেকের কর্ম সংস্থানের সৃস্টি হওয়াতে খুশি এই উদ্যোক্তা। ক্রেতারা বলছেন, ডিমের খোঁশার পাউডার ক্রয় করে সেগুলো বিভিন্ন জৈব সার, পোল্ট্রি ও মাছের খাদ্য তৈরী কারখানাতে সরবরাহ করছেন। এতে অন্যান্য কাঁচামালের তুলনায় উৎপাদন খরচ কমে যাওয়ায় দিন দিন চাহিদা বেড়েই চলেছে।
ডিমের খোসা ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটা কৃষি জমি, কম্পোস্ট তৈরি, কোন কোন ক্ষেত্রে হাঁস, মুরগি, কবুতরের খাবার হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি নার্সারিতে ব্যবহার হচ্ছে। ডিমের খোঁশার এই উদ্যোক্তা পরিবেশে দূষণ রোধের পাশাপাশি রিসোর্সের সঠিকভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করায় দিন দিন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে ফলে উদ্যোক্তার বাড়তি আয় হচ্ছে। তাই নতুন উদ্যেক্তা সৃষ্টিতে বিনামূল্যে সব ধরণের সহযোগিতা অব্যাহত রাখছেন পিকেএসএফের অর্থায়নে জাকস ফাউন্ডেশন বলে জানলেন জাকস ফাউন্ডেশন এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক ডাঃ জহুর আলী। আর এই বিষয়ে সঠিক পরামর্শ দিচ্ছেন বলে জানলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাঃ জিয়াউর রহমান। এবার জাকস ফাউন্ডেশন বিকল্প আয়ের পথ দেখাতে পারে পরিত্যক্ত ডিমের খোঁশার থেকে পাউডার তৈরিতে। ডিমের খোঁশা সাধারণত বর্জ্য হিসেবে বিবেচনা করে ফেলে দেওয়া হয়। সেই ফেলে দেওয়া ডিমের খোঁশা হতে পাউডার বানিয়ে বাজারজাত করে লাভবান হতে পারেন নতুন উদ্যোক্তা।