শীত মৌসুমে কাজিপুরের যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরে সরিষা, ভুট্টা, বাদাম, সবজিসহ নানা শীতকালিন আবাদে ব্যস্ত এখন চরে কৃষকরা। বর্ষাকালে উত্তাল নদীর স্রোতোধারার সাথে উজান থেকে পানির সাথে আসে উর্বর পলি। শুস্ক মৌসুমে জেগে ওঠা সেই নরম পলি চরবাসির নিকট সোনার মতই দামী।
গত দুই সপ্তাহ যাবৎ কাজিপুরের চরা চরের পলি সমৃদ্ধ মাটিতে বাদাম, ভুট্টা, মরিচ, সরিষাসহ নানা ধরনের সবজির বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছে। জমিতেই তারা সকাল এবং দুপুরের খাবার খাচ্ছে। চরের দিনমজুরেরা কাজের সন্ধানে ছুটছে এক চর থেকে আরেক চরে। এরইমধ্যে জেগে ওঠা চরে লাগানো রোপা আমন কেটে জমিতেই মাড়াই করে ঘরে তুলছে কেউ কেউ। কেউবা চরের কাইশা কেটে চরেই শুকিয়ে আঁটি বেঁধে নৌকায় বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে। চরবাসির পরিবহনের জন্যে পানিতে নৌকা আর মাটিতে ঘোড়ার গাড়ি, ভ্যানগাড়ি, আর কাঁধের ভারই একমাত্র ভরসা। সকল কাজেই পুরুষের সাথে নারীরাও সমান তালে কাজ করে। কাজের জন্যে পুরুষ শ্রমিকের পাশাপাশি চরের নারী শ্রমিকদেরও কদর রয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাবার কিছুদিনের মধ্যেই যমুনায় চরের দেখা মেলে। ভোর বেলা থেকে সন্ধ্যা অবধি চরের মাটিতেই নাটুয়ারপাড়া, চরগিরিশ, মনসুর নগর, নিশ্চিন্তপুর, তেকানি ও খাসরাজবাড়ী ইউনিয়নের মানুষের সংগ্রামী জীবন। চরে পুরো চরজুড়ে ফলে নানা ফসল। তাই চরকে কাজিপুরের শস্যভান্ডার বলা হয়।”